একটি সেতুর অভাবে লালমনিরহাট জেলার পাটগ্রাম উপজেলার সাত গ্রামের ছয় হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগের শিকার




লালমনিরহাট প্রতিনিধি

        একটি সেতুর অভাবে লালমনিরহাট জেলার পাটগ্রাম উপজেলার জোংড়া ইউনিয়নের সাত গ্রামের ছয় হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়ছে স্থানীয় ছয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীসহ বিজিবি সদস্যরা। জানাগেছে, সীমান্তবর্তী জুগিটারী গ্রামের ধরলা নদীর ছড়া কালটুর কুড়ার উপর একটি বেসরকারি সংস্থা সেতু নির্মাণ করে দিলেও তা ১৯৮৮ সালের বন্যায় ভেঙে যায়। তারপর থেকে ওই স্থানে বাঁশের সাঁকো তৈরি যাতায়াত শুরু করেন স্থানীয়রা। তবে দীর্ঘ সময় ধরে এভাবে চলতে থাকলেও কোনো সেতুর ব্যবস্থা করেনি প্রশাসন।

      সরেজমিনে গিয়ে স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, উপজেলার জোংড়া ইউনিয়নের ছয় ও সাত নম্বর ওয়ার্ডের বিজিবির ক্যাম্পের সামনে অবস্থিত ওই সেতুবিহীন খালটি জুগিটারীসহ সাতটি গ্রামকে দুই ভাগে ভাগ করেছে। ওই সাত গ্রামের মানুষ ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকোটি পার হয়েই পাটগ্রাম উপজেলা সদর, জেলা শহর এবং ধবলগুড়ি বাজারে যায়। সেতু না থাকায় কাজিপাড়া, জুগিটারী, চর্তুরবাড়ি, মুসলিমপাড়া, ভাটিয়াপাড়া, বিজিবি ক্যাম্প, ডাঙ্গাপাড়া ও শালবন ডাঙ্গাপাড়া সীমান্তবর্তী গ্রামসহ সাতটি  গ্রামের মানুষদের ব্যাপক ভোগান্তি পোহাতে হয়। সবচেয়ে বেশি সমস্যা হয় কেউ গুরুতর অসুস্থ হলে। জুগিটারী কৃষি পণ্য হাট বাজারে নিয়ে যেতে পারে  না। নিয়ে গেলেও খরচ বেশি হয়। আমাদের অনেক দুর্ভোগ পোহাতে হয়। তাই সেতুটি হলে এই গ্রামসহ সাত গ্রামের মানুষের সমস্যার সমাধান হবে।চর্তুরবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদালয়ের প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম বলেন. ওই সাঁকো পার হতে গিয়ে তাঁর বিদ্যালয়ের এক শিক্ষক মোটরসাইকেলসহ পানিতে পড়ে ডুবে যায়। এরপর একজন নারী শিক্ষকও আহত হয়। প্রায় দিনেই শিক্ষার্থীরা পানিতে পড়ে বইসহ খাতাপত্র নষ্ট করে ফেলে। জোংড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আশরাফ আলী বলেন, সেতুটি নির্মাণের জন্য চেষ্টা চালাচ্ছি। ইতিমধ্যেই স্থানীয় এলজিইডির উপজেলা কার্যালয়ের প্রকৌশলী আমাকে জানিয়েছেন, এটির জন্য প্রধান কার্যালয়ে একটি প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। প্রস্তাব অনুমোদন হলেই দ্রুত সেখানে সেতু নির্মাণ হবে।
         স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর এল,জি,আর,ডি পাটগ্রাম উপজেলা প্রকৌশলী আবু তৈয়ব শামসুজ্জামান জানান, সেতুটির নির্মাণের জন্য বিশ্ব ব্যাংকের প্রকল্প তালিকা অর্ন্তভুক্তি করা হয়েছে।  তবে তা একনেকে পাশ হলেই নকশা প্রণয়ের কাজও করা হবে। এরপর বরাদ্দ এলেই সেতুটির নির্মাণ কাজ শুরু করা হবে।

এ,এইচ,এম তারেকুজ্জামান


SHARE THIS

0 Comments:

মতামতের জন্য ধন্যবাদ।