সিলেটের ফুটন্ত ফুল


সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি - সুজন তালুকদার


পবিত্র মাহে রামাদ্বানে বিশুদ্ধ ক্বোরআন শিক্ষায় অনন্য দারুল ক্বিরাত মজিদিয়া ফুলতলী ট্রাষ্ট । লক্ষ লক্ষ মুসলমানের কন্ঠে কুরআনের শুদ্ধ পঠন তুলে দিচ্ছে দারুল ক্বিরাত মজিদিয়া ফুলতলী ট্রাষ্ট। বাংলাদেশ সহ বহির্বিশ্বে ২হাজার ২'শ শাখা কেন্দ্রের মাধ্যমে চলছে পবিত্র ক্বোরআনের খেদমত। যামানার শ্রেষ্ঠ মুজাদ্দিদ, ওলীকুল শিরোমণি শামসুল উলামা আল্লামা ছাহেব ক্বিবলাহ ফুলতলী (রঃ)। প্রতি বছরের ন্যায় এবারের পবিত্র মাহে রামাদ্বানে দেশ-বিদেশেরর বিভিন্ন কেন্দ্রে বিশুদ্ধ ক্বোরআন শিক্ষা। দ্বীনের খেদমতে আজীবন ব্রত থাকা মহান এ বুজর্গের সংক্ষিপ্ত পরিচয়ে জানা যায়, সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার রতনপুরস্থ ফুলতলী গ্রামে মুহাম্মাদ আব্দুল লতিফ চৌধুরী ১৯১৩ ঈসায়ী মোতাবেক ১৩২১ বাংলা সনের ফাল্গুন মাসের এক বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মরহুম মাওলানা মুফতি মোহাম্মদ আব্দুল মজিদ চৌধুরী মুজাদ্দেদী নকশবন্দী (রঃ) ছিলেন তৎকালীন ভারতবর্ষের বাংলা-আসামের একজন শীর্ষ আলিম, মুফতী ও বুযুর্গ। আল্লামা ফুলতলী ছাহেব ক্বিবলাহ বংশ পরম্পরায় ছিলেন হযরত শাহজালাল মুজাররদে ইয়ামনী (রহঃ)'র সঙ্গী ৩৬০ আউলিয়ার অন্যতম হযরত শাহ কামাল (রহঃ)'র অধঃস্তন হযরত শাহ আলা বখশ রহঃ এর বংশধর। শিক্ষা জীবনে তিনি বাদে-দেওরাইল ফুলতলী মাদরাসায় প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করেন। পরে ভারতের আসাম প্রদেশের হাইলাকান্দি জেলার রাঙ্গাউটি, বদরপুর,রামপুর মাদরাসায় শিক্ষা গ্রহন করে কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফল অর্জন করেন। আল্লামা ছাহেব ক্বিবলাহ ফুলতলী (রঃ)'র ইলমে ক্বিরাতের অন্যতম শিক্ষক হলেন শাহ ইয়াকুব বদরপুরী (রঃ)সহ অন্যান্যদের সান্নিধ্যে ক্বিরাত শিক্ষা করে সনদ লাভ করেন। পরে ১৩৫১ বাংলা সনে তিনি পবিত্র মক্কা শরীফে গিয়ে বিশ্ববিখ্যাত ক্বারীগণের কাছ থেকে দু'দফায় সমস্ত কুরআন শরীফের বিশুদ্ধ পঠন শিক্ষা নিয়ে ইলমে ক্বিরাতের সনদ লাভ করেন। কর্মজীবনে তিনি সর্বপ্রথম ১৯৪৬ ইং সনে ভারতের আসামের বদরপুর আলিয়া মাদরাসায় শিক্ষকতায় যোগদানের মধ্য দিয়ে কর্মজীবন শুরু করেন। ১৯৫০ সাল পর্যন্ত সেখানে তিরমিযী শরীফ, নাসাঈ শরীফ, বায়দ্বাবী শরীফ, ও তাফসীরের বিভিন্ন বিষয়াদি শিক্ষা দান করেন। ১৯৫১ ইং সাল থেকে ১৯৫৪ ইং সাল পর্যন্ত ফুলতলী আলিয়া মাদরাসায় শিক্ষাদান করেছেন। ১৯৫৪ ইং সালে তিনি সিলেটের গাছবাড়ী আলিয়া মাদরাসায় মুহাদ্দিস হিসেবে যোগদান করে পরবর্তীতে তিনি সেখানে ভাইস-প্রিন্সিপাল ও পরে প্রিন্সিপাল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সুদীর্ঘ ৬ বছর যাবৎ সেখানে হাদীস শরীফের শিক্ষা দান করেন। এর পর সুদীর্ঘকাল তিনি সৎপুর আলিয়া মাদরাসার কামিল জামাতের ছাত্রদের হাদীস শরীফ শিক্ষাদান করেন। এরপরে তিনি সিলেটস্থ নিজ বাসায় কামিল জামাতের ছাত্রদেরকে সপ্তাহে কিছু সময় বুখারী শরীফের দরস দান করেন। আল্লামা ফুলতলী ছাহেব ক্বিবলাহ বৃদ্ধ বয়সেও বসে থাকেননি। জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত তিনি ছাত্রদেরকে বাদে-দেওরাইল ফুলতলী আলিয়া মাদরাসায় নিয়মিত হাদীস শরীফের দরস দান করছিলেন। মক্কা শরীফ থেকে দেশে ফিরে প্রথমে হযরত আদম খাকি (রঃ) এর মাজার সংলগ্ন মসজিদে ক্বিরাতের শিক্ষা দান শুরু করেন। পরবর্তিতে জকিগঞ্জের বারগাত্তায় সপ্তাহে একদিন ক্বিরাত শিক্ষা দান করতেন।
১৯৪০ ইং সালে নিজ বাড়ীতে ইলমে ক্বিরাতের দরস চালু করেন। দ্রুত গতিতে ছাত্রসংখ্যা বৃদ্ধি পেতে থাকায অন্যান্য স্থানেও শাখা অনুমোদন ও একটি বোর্ড গঠনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। তখন পিতার নামানুসারে বোর্ডের নাম রাখা হয় দারুল ক্বিরাত মজিদিয়া ফুলতলী ট্রাষ্ট। নিজ ভু-সম্পত্তির প্রায় ৩৩ একর জমি ট্রাষ্টের নামে ওয়াকফ করে দেন। জীবনের শেষ মুহুর্ত পর্যন্ত তিনি ইলমে ক্বিরাতের খিদমত করে গেছেন। মুসলমানদের ইসলামী তাহযীব তামাদ্দুনের আলোকে গড়ে তোলার লক্ষ্যে অসংখ্য মাদরাসা, মসজিদ-মক্তব ও দ্বীনি প্রতিষ্টান স্থাপন করেছেন। তার নির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে দেশ-বিদেশে প্রায় দু’শতাধিক মাদরাসা পরিচালিত হচ্ছে। তিনি নিজ বাড়িতে একটি এতিমখানা স্থাপন করেছিলেন। সেখানে অসংখ্য এতিম শিক্ষার্থীরা লেখা-পড়ার সুযোগ পাচ্ছে। জীবনের শত ব্যস্ততার মধ্যেও তিনি বিভিন্ন সময়ে বেশ কিছু ধর্মীয় পুস্তকাদি রচনা করেছেন। তাঁর রচিত পুস্তকের মধ্যে রয়েছে আত তানভির আলাত তাফসীর, মুন্তাখাবুস সিওর, আল খুতবাতুল ইয়াকুবিয়া, আনোয়ারুস সালিকীন, নালায়ে কলন্দর; হামদ, নাত ও মুনাজাত সমৃদ্ধ গ্রন্থ। বর্তমানে এর খেদমতে রয়েছেন ফুলতলী (রঃ)'র সুযোগ্য উত্তরসূরি আল্লামা ইমাদ উদ্দিন চৌধুরী (বড় ছাহেব ক্বিবলাহ)

SHARE THIS

0 Comments:

মতামতের জন্য ধন্যবাদ।