ড.ফরিদ নাকি ওয়াদুদ, কে পাচ্ছেন বিএনপির ধানের শীষ প্রতিক

মাসুদ রানা - মোংলা

ড.শেখ ফরিদুল ইসলাম না মাওঃ শেখ আব্দুল ওয়াদুদ, কে পাচ্ছেন বিএনপির ধানেরশীষ প্রতিক। এনিয়ে এলাকায় চলছে নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে আলাপ আলোচনা এবং চুলছেড়া বিশ্লেসন। মোংলা ও রামপাল এলাকায় আনাসে কানাছে চলছে এনিয়ে আলোচনারঝড়। সর্বশেষ ১৯৯৬ সালের সংসদ নির্বাচনে বাগেরহাট-৩ আসনে প্রার্থী দিয়েছিল বিএনপি। এরপর থেকে মোংলা ও রামপাল উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনে আর বিএনপি দলীয় ভাবে প্রার্থী দেয়নি। আওয়ামী লীগের সঙ্গে প্রতিদ্বন্ধিতা করে আসছিল জামায়াত। কিন্তু এবারের নির্বাচনে বিএনপির স্থানীয় নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের জোরালো দাবি ছিল এই আসনে তাঁদের দলীয় প্রার্থী দেওয়ার। অবশেষে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন বাগেরহাট জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম। অন্যদিকে এই আসনে জামায়াতে ইসলামীর আবদুল ওয়াদুদকে ২০-দলীয় জোট জাতীয় ওক্যফ্রন্ট থেকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে দুই দলের নেতা-কর্মীদের মধ্যেই বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে। তবে দুই নেতাই দাবি করছেন, তাঁদের নিজ নিজ মনোনয়নই চুরান্ত এবং প্রতেক প্রার্থীর সমর্থকরা দাবী করেন দলীয় প্রতিক পাওয়ার । ১৯৯১ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত চারটি সংসদ নির্বাচনেই এই আসনে আওয়ামী লীগের বিপক্ষে প্রার্থী দিয়েছিল জামায়াত। সব কটি নির্বাচনেই আওয়ামী লীগের প্রার্থীর কাছে পরাজিত হন জামায়াতের প্রার্থী প্রায়ত মাওলানা আবু বকর ছিদ্দিক ও মাওলানা আব্দুল ওয়াদুদ। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে এই আসন থেকে বিএনপি ও জামায়াত আলাদাভাবে নির্বাচন করেছিল। বিএনপির প্রার্থী সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান পেয়েছিলেন ১৭ হাজার ৮১২ ভোট। জামায়াতের প্রার্থী গাজী আবু বকর সিদ্দিক পেয়েছিলেন ৩২ হাজার ২০৫ ভোট। ১৯৯৬ সালের নির্বাচনেও বিএনপি ও জামায়াত আলাদা নির্বাচন করেছিল। জামায়াতের প্রার্থী গাজী আবু বকর সিদ্দিক পেয়েছিলেন ৩৪ হাজার ৩২১ ভোট। আর বিএনপির প্রার্থী এ ইউ আহমেদ পান ২১ হাজার ৫৫০ ভোট। ২০০১ সাল থেকে জোটবদ্ধ নির্বাচনে এই আসনটি জামায়াতকে ছেড়ে দেয় বিএনপি।
    ২০০১ ও ২০০৮ সালের দুটি নির্বাচনেই জামায়াতের প্রার্থী বিপুল ভোটে পরাজিত হন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগের প্রার্থীর সাথে। তবে সচেতন মহলের দাবী, আওয়ামীলেিগর হেব্যিওয়েট পুরনো প্রার্থীর সাথে প্রতিদন্ধিতা করার মতো ড. ফরিদই যোগ্য। তাই এবারের নির্বাচনে মাওঃ ওয়াদুদকে না দিয়ে জামায়াত ও বিএনপির সমর্থকার পিছনের সবকিছু ভুলে  লায়ন ড.ফদিুল ইসলামের নির্বাচনে সহযোগীতা করলে এ আসন ছিনিয়ে নেয়া সম্ভব। এর আগে ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বেগম হাবিবুন নাহার প্রায় ৩১ হাজার ভোটের ব্যবধানে জামায়াত প্রার্থী আইনজীবী মাওলানা আবদুল ওয়াদুদকে পরাজিত করে সাংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। সেই থেকে বিএনপির নেতা-কর্মীরা দাবি তুলে আসছিলেন এই আসনে বিএনপির প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়া হোক। তাহলে আওয়ামীলীগের প্রার্থীর সাথে তীব্র প্রতিদ্বন্ধিতা হবে। শেষ পর্যন্ত বিএনপির নেতা-কর্মী-সমর্থকদের সেই আশা পুর্ন হয়েছে। ১০ বছর ধরে বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় বাগেরহাট জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি রামপাল সদর উপজেলার বাসিন্দা লায়ন ড.শেখ ফরিদুল ইসলামকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। এই আসনে বিএনপির ১১ জন মনোনয়ন ফরম সংগ্র করেছিলেন। কেন্দ্রীয়ভাবে ফরিদুলের হাতে দলীয় মনোনয়নের চিঠি তুলে দেয়।
ড.শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, গত দুটি নির্বাচনে এই আসন থেকে অনেক ভোটের ব্যাবদানে জামায়াতের প্রার্থী পরাজিত হয়েছেন। মোংলা ও রামপালে ৫৫ থেকে ৬০ হাজার হিন্দু ও খ্রিষ্টান সম্প্রদয়ের ভোট রয়েছে। বিগত নির্বাচনগুলোতে জামায়াতের প্রার্থীকে এই ভোটব্যাংক থেকে কোনো ভোট পাননি। ড. ফরিদুল ইসলাম মোংলা-রামপালের প্রত্যান্ত অঞ্চলে দলমত এবং জাতী ধর্ম নির্ভিশেষে সকলের বিপদের সময় সহায়ক হয়ে পাশে এসে দাড়িয়েছে তিনি। তাই বিএনপির প্রার্থী হিসেবে তিনি এই ভোটারদের একটি বড় অংশের ভোট পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী।
অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর বাগেরহাট জেলা নায়েবে আমির মাওলানা আবদুল ওয়াদুদ বলেন, তিনি জোটগতভাবে মনোনয়ন পেয়েছেন। তিনি বিগত বছরগুলোতে মামলা খেয়েছেন, বেশ কয়েকবার কারাবরণ করেছেন। তারপরও নেতা-কর্মীদের পাশে সব সময় ছিলেন। ভবিষ্যতেও থাকবেন। তিনি আরও বলেন, ২০০৮ সালের নির্বাচনে নতুন প্রার্থী ছিলাম। সে কারণে তখনকার হিসাব এখন করলে চলবে না। এবারের নির্বাচন সুষ্ঠু হলে বিজয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী আমি।
ড.ফরিদুল ইসলাম ২৮ নভেম্বর দুপুর ১২টায় রামপাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা তুষার কুমার পালের কাছে মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে এলাকার নেতাকর্মীদের সাথে দেখা করেন এবং সকলের কাছে দোয়া নিয়ে নির্বাচনী আলাপ আলোচনা শুরু করেন। এতে দীর্ঘ ১৮ বছর পর নতুন করে বাগেরহাট-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী দলীয় মনোনয়ন পাওয়ায় তৃন্যমুলের নেতা কর্মীরা উজ্জীবিত। তারা প্রতিজ্ঞা করেছে, যেভাবেই হোক তাদের প্রার্থী ড. ফরিদুল ইসলামকে ভোটের মাধ্যমে বিজয়ী করতে।

SHARE THIS

0 Comments:

মতামতের জন্য ধন্যবাদ।