মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে ভারতের বাংলাদেশী শরনার্থী স্থান দেওয়া কি কারন

মহিউদ্দীন রায়পুর, বাংলাদেশের সংবাদ


ভারত সরকার এবং এদেশের তাবেদার ,ভারতের গোলামেরা মুক্তিযুদ্ধে ভারতের অবদান নিয়ে ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে অনেক কিছু বলে। উল্লেখযোগ্য কথা হল ভারত লক্ষ লক্ষ শরনার্থী স্থান দিয়েছে। 
> > #প্রশ্ন জাগে -
 ১. কোন ধর্মের লোকেরা শরনার্থী ছিল বেশী ? 
 ৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে হিন্দুদের যুদ্ধ করার তুলনায় ভারত পালিয়ে যাওয়ার প্রবণতা ছিলো বেশি।৭১ এ দেশ ছেড়ে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের শরনার্থী শিবিরে আশ্রয় নেয়াদের মাঝে ৮০ শতাংশই ছিলো হিন্দু। অর্থাৎ, যদি এক কোটি শরনার্থি হিসেব করা হয়, তবে আশি লক্ষই ছিলো হিন্দু।
 যুদ্ধের সময় খুলনা অঞ্চলে সীমান্তের ২০ মাইল পথ ঘুরে দেখার যে অভিজ্ঞতা মার্কিন সিনেটর এডওয়ার্ড কেনেডি লিখেছিল, তাতেও শরণার্থীরা যে মূলত হিন্দু ধর্মাবলম্বীই ছিল, তা জানা যায়। 'দ্য টেস্টিমনি অব সিক্সটি'তে কেনেডি লিখেছিল, 'যেদিন আমরা এই ২০ মাইল সড়ক ঘুরি, সেদিন কমপক্ষে সাত হাজার শরণার্থী বয়রার কাছে নদী পেরিয়ে সীমান্তের পাড়ঘেঁষে স্রোতধারার মতো নেমে এসেছে। এদের প্রায় সবাই কৃষক, চাষি-মজুর। অধিকাংশই হিন্দু। ঢাকা জেলার দক্ষিণে খুলনা ও বরিশাল থেকে এসেছে। গত শরতের সাইক্লোনে বিধ্বস্ত প্রান্তবর্তী জেলা থেকে এসেছে।' 
 কেনেডি একাত্তরের আগস্ট মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে ভারত এসেছিল এবং পাঁচ দিন পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরাসহ অন্যান্য রাজ্যে শরণার্থী শিবির পরিদর্শন করে। 'দ্য টেস্টিমনি অব সিক্সটি' প্রকাশিত হয় অক্টোবরে। ততদিনে ভারতে শরণার্থীর সংখ্যা ৯০ লাখ হয়ে গিয়েছিল।  (সুত্রঃ সিনেটর এডওয়ার্ড কেনেডি, ১লা নভেম্বর, ১৯৭১ এ আমেরিকার সিনেট কমিটিতে উত্থাপিত টেস্টিমোনি)  অন্যমতে, একাত্তরের শরণার্থীদের প্রায় ৯০ শতাংশ ছিল হিন্দু।আগস্ট ১৯৭১ পর্যন্ত হিন্দুদের সংখ্যা ছিল ৬৯ লাখ ৭১ হাজার এবং মুসলিম ও অন্য ধর্মাবলম্বীর সংখ্যা ছিল প্রায় ছয় লাখ। অনেকে বলে থাকে পশ্চিম পাকিস্থানের সেনারা হিন্দুদের উপর অত্যাচার বেশি করার কারণে তারা চলে গেছে। তাদের উপরই নাকি পাকিস্তানী সেনাবাহিনী স্টিম রোলার চালিয়েছে।
 তাহলে প্রশ্ন হল-
 ১.     ৪৭ থেকে মুক্তিযুদ্ধ হবার পুর্ব পর্যন্ত তো পাকিস্তান সরকারই ক্ষমতায় ছিল। এত বছর কেন যায়নি ?
২.      ২৫ শে মার্চ কালো রাত্রিতে পাকিস্তানী আর্মি অপারেশন সার্চ লাইটে” বিরামহীন ৩৩ ঘন্টার হত্যাযজ্ঞের শিকার হয় হাজার হাজার বাঙ্গালি নরনারী। তারা কি শুধু হিন্দু ছিল ? 
> > ৩.        ৯ মাস স্বাধীনতা যুদ্ধে ৩০ লক্ষ প্রান দিয়েছে। যার ৯৯.৯৯ ভাগ হল মুসলমান। হিন্দুদের প্রতি-ই যদি পাকিস্থানী সেনাদের আক্রোশ থাকত তাহলে ৩০ লক্ষ মুসলমান শহীদ হল কি করে?
 মূলত হিন্দুরা নিজ প্রান বাছানোর জন্যই দেশকে অরক্ষিত রেখে চলে গেছে, মুসলমান যায়নি।হিন্দুরা বাংলাদেশকে কখনোই নিজের দেশ মনে করেনি বলেই দেশ ছেড়ে পালিয়েছে কিন্তু মুসলমান দেশ প্রেমে উজ্জীবিত হয়ে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছে। হিন্দুদের মানসিকতা ছিল দেশ ছেড়ে পালানোর, আর মুসলমানের ছিল দেশ স্বাধীন করা?
 মে-জুন মাস থেকে শুরু হয় মুক্তিবাহিনী গঠনের কাজ। ন’মাস যুদ্ধকালে প্রায় লাখ খানেক মুক্তিযোদ্ধা ট্রেনিং নেয়, এদের তাদের মধ্যে শতকরা ১ ভাগেরও কম ছিল শরনার্থী শিবিরের। জীবনের ভয়ে পালিয়ে আসা বেশীরভাগ শরনার্থী ছিল হিন্দু সম্প্রদায়ের, যাদের মধ্যে খুব কম সংখ্যকই ছিল ট্রেনিং নিয়ে শত্রুর বিরুদ্ধে লড়াই করার মানসিকতা সম্পন্ন।

 ২.।ভারত কেন শরনার্থী আশ্রয় দিয়েছে? 
 প্রধানত, দুটি লক্ষ্য সামনে রেখে ভারত শরণার্থী বিষয়ে নীতি প্রণয়ন করেছিল।
 ১. হিন্দু জাতীয়তাবাদের উদ্বুদ্ধ হয়ে হিন্দুদের আশ্রয় দান এবং হিন্দুদের পাকিস্থানী সেনা কতৃক হত্যা থেকে রক্ষা করা।যদি সব মুসলমান হত তাহলে ভারত কখনোই আশ্রয় দিতনা। ৪৭ সালের দেশ ভাগের পুর্বে বিহার দাংগায় যখন মুসলমান গণহারে শহিদ হচ্ছিল গান্ধী তখন নোয়াখালীতে হিন্দুদের দেখতে গিয়েছিলো। এখনো ভারত হিন্দুদের প্রকাশ্যে আশ্রয়দানের কথা বলে। তার বিপরীতে মুসলমানদের দেশ থেকে বের করে দেওয়ার কথা বলে।
 ২. জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে সাহায্য গ্রহণ।
 জুন ১৯৭১ পর্যন্ত জাতিসংঘ ও অন্যান্য উৎস থেকে প্রাপ্ত ও প্রতিশ্রুত সাহায্যের পরিমাণ ছিল ২৬ কোটি ৩০ লাখ মার্কিন ডলার। জাতিসংঘের ইতিহাসে এটা ছিল আকাশপথে সবচেয়ে বৃহৎ সাহায্য। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র, পশ্চিম জার্মানি, ব্রিটেন, অস্ট্রেলিয়া, জাপান, সোভিয়েত ইউনিয়ন ও পূর্ব ইউরোপের রাষ্ট্রগুলো সাহায্য পাঠায়।প্রেসিডেন্ট নিক্সন শরনার্থীদের জন্য শেষ পর্যন্ত ২৫০ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ করে । প্রকাশ্য সাহায্যের বাইরেও শরনার্থীর ধোয়া তুলে অনেক সাহায্য ভারত সরকার পেয়েছে কিন্তু তার সবই তারা হজম করেছে।

SHARE THIS

0 Comments:

মতামতের জন্য ধন্যবাদ।