সরকারী দলের পক্ষপাতমূলক আচরণে নোয়াখালী-৪ আসনে বিএনপির নির্বাচনী প্রচারণা বন্ধ ঘোষণা



মোঃ তাওহীদুল হক চৌধুরী - নোয়াখালী প্রতিনিধি


নোয়াখালী-৪ (সদর-সুবর্ণচর) আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির নির্বাচনী প্রচারণা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। গতকাল ২২ ডিসেম্বর রাত ১০.৩০ ঘটিকার সময় বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আলহাজ্ব মোঃ শাহজাহান তাঁর নিজ বাসভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচনী প্রচারণা বন্ধের ঘোষণা দেন। তিনি এসময় সাংবাদিকদের উদ্দেশ্য বলেন- পুলিশ ও সরকারী দলের নেতাকর্মীদের পক্ষপাত মূলক আচরণ তথা হামলা, মামলা, ওয়ারেন্ট বিহীন বিএনপির অগণিত নেতাকর্মীদের গ্রেফতার, নির্বাচনী কাজে ব্যবহৃত যানবাহনে অগ্নি সংযোগসহ বিভিন্ন হয়রানি মূলক কর্মকান্ডের জন্য আমরা আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সকল প্রকার নির্বাচনী প্রচারণ বন্ধ ঘোষণা করছি। কারণ, গতকাল ২২ ডিসেম্বর জেলার সুবর্ণচর উপজেলায় বিএনপির শান্তিপূর্ণ নির্বাচনী প্রচারণা ও গণসংযোগের সময় ১নং চরজব্বর ইউনিয়নের চরহাসান ভূইঁয়ারহাট বাজারে জনসংযোগকালীন স্থানীয় আওয়ামী সন্ত্রাসীরা অর্তকিতভাবে হামলা করে । ফলে আমাদের তিন নেতাকর্মী আহত হয় ও এসময় তারা আমাদের তিনটি মটর সাইকেল ভাংচুর করে । পরবর্তীতে উপজেলার কাঞ্চন বাজারে তারা আমাদের জনসংযোগে বাধা প্রদান করে।


এসময় আমরা বিজিবির সহায়তায় জনসংযোগ কার্যক্রম চলমান রাখি। গনসংযোগ শেষে কর্মীরা নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি এডভোকেট এবিএম জাকারিয়ার বাড়ীতে নামাজ ও দুপুরের খাবারের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। এসময় হঠাৎ ডিবি পুলিশ ও চরজব্বর থানা পুলিশ বিনা উস্কানিতে অর্তকিত অসংখ্য গুলি, সাউন্ড গ্রেনেড বিস্ফোরণ ঘটিয়ে নেতাকর্মীদেরকে বিচ্ছিন্ন করে এবং বেদম লাঠিচার্জ শুরু করে। এতে বিএনপির প্রায় ২০/২৫ জন নেতাকর্মী গুরুতর ভাবে আহত হয়। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ নির্বাচনী বহরে থাকা অসংখ্য মোটর সাইকেল জোর পূর্বক থানায় নিয়ে যায় এবং পুলিশের উপস্থিতিতে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা বেশ কয়েকটি মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেয়।
ঘটনাস্থল থেকেই এ ব্যাপারে সহকারী রিটানিং কর্মকর্তাকে অবহিত করা হলেও কোন প্রতিকার হয়নি বরং পুলিশ জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি এবিএম জাকারিয়া, জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি মাহবুব আলমগীর আলো , জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আজগর উদ্দিন দুখু, সুবর্ণচর উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি নুর নবী চৌধুরীসহ ১৬ জন নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করে চরজব্বর থানায় নিয়ে যায়। বর্তমানে তাহারা চরজব্বর থানা হাজতে আটক আছে। তিনি আরো বলেন- শান্তিপূর্ন গনসংযোগ এবং নির্বাচনী প্রচারনায় এ ধরনের মধ্যযুগীয় হামলা সভ্য সমাজে কখনই কল্পনা করা যায় না । রাষ্ট্রযন্ত্র ও সন্ত্রাসীদের ব্যাবহার করে বর্তমান স্বৈরাতান্ত্রিক সরকার প্রতিপক্ষ বিরোধী দলকে র্নিমূলের যে উৎসব শুরু করেছে চূড়ান্ত বিচারে তা কারো জন্যই সুখকর নয়। ইনশআল্লাহ ৩০ ডিসেম্বর আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগন একতাবদ্ধ হয়ে সংগ্রামের মধ্য দিয়ে এই সৈ¦রাচার সরকারের পতন ঘটাবে ।
অবিলম্বে আমরা সুষ্ঠ নির্বাচনের স্বার্থে গনসংযোগ ও নির্বাচনী প্রচারনায় সন্ত্রাসী হামলা বন্ধ, নির্বাচনে সকলের সমান সুযোগ নিশ্চিতকরণ, নেতাকর্মীদের বাড়ী বাড়ী তল্লাশী বন্ধ, বিনা ওয়ারেন্ট গ্রেফতার বন্ধ, দলীয় নেতাকর্মীদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সহ অন্যান্ন স্থাপনায় হামলা, ভাংচুর বন্ধের জোরালো দাবি জানাচ্ছি। উদ্ভূত পরিস্থিতি, প্রসাশনের চরম অসহযোগিতা এবং পুলিশের বেপরোয়া আচরন এবং সরকারী দলের প্রতি পক্ষপাতমূলক আচরনের কারনে আমরা আমাদের নির্বাচনী গনসংযোগ কার্যক্রম আপাতত বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছি।

SHARE THIS

0 Comments:

মতামতের জন্য ধন্যবাদ।