দেড়শ মিটারের একটি ব্রিজে বদলে যাবে ২ শতাধিক পরিবারের ভাগ্য

মোঃ ফরিদুল আলম বাবলু - বান্দরবন প্রতিনিধি

চন্দনাইশ পৌরসভার দক্ষিণ গাছবাড়িয়া এলাকার একটি গ্রাম তালুকদারপাড়া। এ গ্রামে বাস করে কমপক্ষে ২শতাধিক পরিবার। গ্রামটির মধ্যদিয়ে প্রবাহিত হয়েছে বরুমতি খাল। বরুমতি খালের জলরাশি এ গ্রামের মানুষদের মধ্যে বিভাজনের একটি ধারা সৃষ্টি করে রেখেছে যুগ যুগ ধরে। এই বিভাজনের মধ্যদিয়েই তালুকদারপাড়ার বাসিন্দাদের নিত্যনৈম্যত্তিক কাজ করতে যেতে হয় চন্দনাইশ পৌরসভাসহ অন্যান্য স্থানে। অথচ এ গ্রামের মাঝে বিভাজন সৃষ্টিকারী বরুমতি খালে মাত্র দেড়শ মিটারের মতো একটি ব্রিজ ও আঁধা কিলোমিটার সড়ক সংস্কার করলেই আমূল পরিবর্তন হবে এ গ্রামের বাসিন্দাদের জীবনমান।

জানা যায়, এ গ্রামের বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি ছিল বরুমতি খালের উপর একটি ব্রিজ নির্মাণের। ইতিমধ্যে স্থানীয় জনগণ মসজিদ ফান্ডের টাকা ও ব্যক্তিগত টাকা ব্যয় করে ব্রিজ নির্মাণের নিমিত্তে বেশ কয়েক বছর পূর্বে বরুমতি খালে ৪/৫টি পিলার নির্মাণ করেন। কিন্তু উপরে পিচ ঢালাই দিতে না পারায় পিলারের উপর বাঁশ, গাছ বেঁধে দিয়ে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণভাবে যাতায়াত করে আসছে তালুকদারপাড়ার বাসিন্দারা। এছাড়া কোন মানুষ মারা গেলে তার লাশ খালের ভিতর দিয়েই নিয়ে যেতে হয় মসজিদ মাঠে। পাশাপাশি তালুকদাপাড়া সড়কটিও স্বাধীনতার পর থেকে অবহেলিত। অথচ গ্রামের প্রায় ২শ পরিবারের কয়েক হাজার মানুষ এ সড়ক দিয়ে যাতায়াত করে। সড়কটি সংস্কারবিহীন পড়ে থাকায় বর্ষাকালে সড়কটি পিচ্ছিল হয়ে ছাত্রছাত্রীরা স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসায় যেতে পারে না। ব্যাঘাত ঘটে ছাত্রছাত্রীদের পড়ালেখায়।
গত বুধবার বিকেলে চন্দনাইশ পৌরসভার সবচেয়ে অবহেলিত গ্রামটি ঘুরে দেখা যায়, গ্রামের অভ্যন্তরে প্রবাহিত প্রায় আঁধা কিলোমিটার কাঁচা সড়কটি সংস্কার বিহীন অবস্থায় পড়ে রয়েছে। বিলের সাথে মিশে গেছে সড়কটি। রাস্তা দিয়ে হেটে গ্রামের মাঝখানে গিয়ে দেখা যায় বরুমতি খাল। খালের জলরাশি বিভাজন সৃষ্টি করেছে গ্রামের মানুষদের মধ্যে। এই খালে ব্রিজ নির্মাণের মাধ্যমে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে এলাকাবাসী নিজস্ব অর্থায়নে খালের মধ্যে বিশাল ৪টি পিলার নির্মাণ করেছেন। পিলারের উপর পিছ ঢালাই দিতে পারেনি। তাই পিলারের উপর বাঁশ গাছ দিয়ে তার উপর ঝুঁকিপূর্ণভাবে চলাচল করছে। এলাকার মুরুব্বিরা খালের পশ্চিম তীরে অবস্থিত মসজিদে নামাজ পড়তে যাচ্ছে ঝুঁকিপূর্ণ এ ব্রিজের উপর দিয়েই।
আবদুল খালেক সওদাগর নামে গ্রামের এক প্রবীন ব্যক্তি জানান, বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে ৪৮ বছর হয়ে গেছে। এই ৪৮ বছরে যতবারই জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচন হয়েছে ততবারই গ্রামে নেতাদের আনাগোনা দেখা যেতো। সবাই গ্রামে এসে প্রতিশ্রুতি দিয়ে যান নির্বাচিত হলে সড়কটি সংস্কার করবে, ব্রিজটি নির্মাণ করবে। কিন্তু তালুকদারপাড়ার বাসিন্দাদের ভাগ্যের পরিবর্তন আর হলো না। তিনি বলেন, তৎকালীন কর্ণেল অলি আহমদের সময় থেকে বর্তমান সাংসদ নজরুল ইসলাম চৌধুরীর সময়েও আমরা অবহেলিত পড়ে আছি। তিনি দূঃখ করে বলেন, কিছুদিন আগে সামান্য বৃষ্টিতে সড়কটি পিচ্ছিল হওয়ায় সেহেরী খেয়ে নামাজ পড়তে মসজিদে যাওয়ার পথে পা পিছলে পড়ে কোমরে আঘাত পেয়েছেন।
স্থানীয়রা জানিয়েছে তালুকদারপাড়া গ্রামটি চন্দনাইশ পৌরসভার ৮ ও ৯ নং ওয়ার্ডের মধ্যভর্তি স্থানে হওয়ায় ২ ওয়ার্ডের কাউন্সিলরের রশি টানাটানির ফলে যুগ যুগ ধরে উন্নয়ন বঞ্চিত রয়ে গেছে। অথচ বর্তমান সরকারের আমলে সারা বাংলাদেশে যে উন্নয়ন কর্মকান্ড সংঘটিত হচ্ছে তাতে এ এলাকায় উন্নয়নের ছোঁয়া না পড়া অত্যন্ত দূঃখজনক। অর্ধনির্মিত ব্রিজ ও সড়কটি তালুকদারপাড়া গ্রামের বাসিন্দাদের প্রাণের দাবি উল্ল্লেখ করে সড়কটি সংস্কার ও ব্রিজটি নির্মাণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি।
তালুকদার পাড়ার এক ব্যক্তি(নাম প্রকাশ করতে অনিচ্ছুক)    বলেন, চন্দনাইশ পৌরসভার মধ্যে এই একটি সড়কই এখনো কাঁচা রয়ে গেছে। ফলে বর্ষাকালে এ এলাকার মানুষ কোনভাবেই এ সড়ক দিয়ে যাতায়াত করতে পারেনা। বিশেষ করে শিশু ও নারীদের দূর্ভোগ চরমে উঠে। কোন মুমুর্ষ রোগী নিয়ে চন্দনাইশ সদরে যাওয়া সম্ভব হয়না। স্থানীয় কৃষকদের উৎপাদিত মালামাল নিয়েও দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
সড়ক ও ব্রিজের ব্যাপারে জানতে চাইলে চন্দনাইশ পৌরসভার মেয়র মাহাবুবুল আলম খোকা সমাজের চোখ কে  বলেন, ইতিমধ্যে বেশ কয়েকবার তালুকদারপাড়া সড়ক ও ব্রীজের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে তিনি নিজেই পরিদর্শন করে যাচাই করেছেন। ইতিমধ্যে দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ে পিএবি ব্রিজের জন্য প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। প্রস্তাবনাটি বিবেচনাধীন আছে। তিনি আরো বলেন, গাছবাড়িয়া পক্ষী মার্কা এলাকা থেকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কটি ডাইভারশন হওয়ার সম্ভাবনা আছে। সেক্ষেত্রে বরুমতি খালের উপর প্রস্তাবিত ৬ লাইনের ব্রিজটিও অনেকাংশে পশ্চিম দিকে তালুকদার বাড়ির মাঝামাঝি চলে যাবে। অর্থ্যাৎ স্থানীয়রা বরুমতি খালের যেখানে ব্রিজের জন্য পিলার নির্মাণ করেছেন তার পাশ দিয়েই চট্টগ্রাম-কঙবাজার মহাসড়কের ৬ লাইনের প্রস্তাবিত ব্রিজটি যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে মহাসড়কের ব্রিজটি হওয়ার পর প্রয়োজনীয়তার ভিত্তিতে এব্যাপারে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে তালুকদারপাড়া সড়কটি শীঘ্রই সংস্কার শুরু হবে বলে তিনি সমাজের চোখ কে জানিয়েছেন।

SHARE THIS

0 Comments:

মতামতের জন্য ধন্যবাদ।