করোনাকালে মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ


করোনাকালে মানসিক চাপ থেকে নিজেকে মুক্ত রাখতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা নিম্নোক্ত পরামর্শগুলো দিয়েছে:
** সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত থাকতে জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থার ওপর নির্ভর করুন। যেকোনো তথ্যের জন্য বিশ্বস্ত সংবাদ মাধ্যম যেমনঃ সরকারি প্রচারমাধ্যম এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যের ওপর নির্ভর করতে পারেন।
** একটি দৈনন্দিন রুটিন মেনে চলুন। ঘুমাতে যাওয়া ও ঘুম থেকে ওঠার ক্ষেত্রে স্বাভাবিক নিয়ম মেনে চলার চেষ্টা করুন। অফিসের কাজের জন্য আলাদা সময় রাখুন ও ভালো লাগে এমন কাজ প্রতিদিনের রুটিনে রাখুন। এছাড়া ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা, নিয়মিত ব্যায়াম ও ভালো খাদ্যাভ্যাস মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে।
** মানসিক অস্থিরতা ও উদ্বেগ সৃষ্টি করে এমন সংবাদ দেখা কমিয়ে আনতে হবে। প্রতিদিন সময় নির্দিষ্ট করে একবার বা দুবার সর্বশেষ সংবাদ দেখুন।
ক্স এই সময়ে মানসিক চাপ কমাতে সামাজিক যোগাযোগ গুরুত্বপূর্ণ। করোনা ভাইরাসের ঝুঁকি এড়াতে টেলিফোনে বা অনলাইনে সবার সাথে যোগাযোগ রাখুন।
** সবধরণের মাদকদ্রব্য সেবন ও নেশা থেকে বিরত থাকুন। মাদকদ্রব্য সেবন সংক্রমণের ঝুঁকি ও চিকিৎসার জটিলতা আরো বাড়িয়ে দিতে পারে।
** স্ক্রিন আসক্তি থেকে মুক্ত থাকতে টিভি, কম্পিউটার বা মোবাইল স্ক্রিনে কতটুকু সময় কাটছে তা লক্ষ্য রাখুন। শিশুদের স্ক্রিন আসক্তি থেকে দূরে রাখতে তাদের সৃষ্টিশীল কাজ করতে উৎসাহ দিন। 
** শিশু কিশোরদের প্রতিদিনের রুটিনে অফ-লাইন কার্যক্রম রাখুন। দীর্ঘসময় বাসায় থাকলে তাদের ভিডিও গেমস আসক্তি বৃদ্ধি পেতে পারে। এবিষয়ে সতর্ক থাকুন।
** সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ইতিবাচক বিষয় শেয়ার করুন। কেউ মিথ্যা বা ভুল কিছু শেয়ার করলে তার ভুল ধরিয়ে দিন।
** সম্ভব হলে আপনার এলাকার অসহায়, দুস্থ মানুষ ও সমাজের অন্যদের নিজ অবস্থান থেকে সহযোগিতা করুন। এতে আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি পায়, ইতিবাচক চিন্তার বিকাশ ঘটে এবং স্বাস্থ্য ভালো থাকে।
** করোনা আক্রান্তদের চিকিৎসার সাথে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা অত্যন্ত মানসিক চাপে থাকেন। তাদের অবদানকে সম্মান জানান ও তাদের উৎসাহিত করুন। তারা যেন কোনো ভাবেই সামাজিক নিগ্রহের শিকার না হয় সে বিষয়ে লক্ষ্য রাখুন। 
** যাদের পূর্ব থেকেই মানসিক সমস্যা আছে তাদের প্রতি বিশেষ যত্ন নিন। ঘরে প্রয়োজনীয় ওষুধ ও অন্যান্য সহায়ক সামগ্রীর পর্যাপ্ত মজুদ রাখুন। জরুরি পরিস্থিতিতে কাজে লাগতে পারে যেমন ডাক্তার, হাসপাতাল, পুলিশ, ট্যাক্সি, অনলাইন ডেলিভারির ফোন নাম্বারগুলো সংগ্রহ করে রাখতে পারেন। 

SHARE THIS

0 Comments:

মতামতের জন্য ধন্যবাদ।